হিসাবের শ্রেণিবিভাগকে প্রধানত ২ ভাবে বোঝা যায়:
-
আধুনিক শ্রেণিবিভাগ — সম্পদ, দায়, মালিকানা স্বত্ব, আয়, ব্যয় এবং এগুলোর বিপরীত, প্রতি বা কন্ট্রা হিসাব।
-
প্রচলিত/প্রথাগত শ্রেণিবিভাগ — ব্যক্তিবাচক হিসাব, সম্পত্তিবাচক হিসাব এবং নামিক হিসাব।
আধুনিক শ্রেণিবিভাগ
১. সম্পদ (Asset)
সম্পদ হলো এমন অর্থনৈতিক সম্পত্তি বা অধিকার যা অতীত লেনদেন বা ঘটনার ফলে সৃষ্টি, বর্তমানে ব্যবসায়ের মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত এবং ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সুবিধা প্রদান করবে। যেমনঃ নগদ অর্থ, অগ্রিম ব্যয়, ব্যাংক, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, প্রাপ্য হিসাব।
সম্পদের স্বাভাবিক জের: ডেবিট
বিপরীত, প্রতি বা কন্ট্রা সম্পদ (Contra-Asset)
বিপরীত সম্পদ হিসাব সংশ্লিষ্ট সম্পদের মূল্য বা জের কমিয়ে দেয়। এ ধরনের হিসাবের সাধারণত ক্রেডিট জের থাকে।যেমনঃ পুঞ্জিভূত অবচয় বা অবচয় সঞ্চিতি (Accumulated Depreciation), সন্দেহজনক পাওনা, কুঋন সঞ্চিতি (Allowance for Doubtful Accounts)।
২. দায় (Liability)
দায় হলো কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বর্তমান আর্থিক বাধ্যবাধকতা, যা অতীতের কোনো লেনদেন বা ঘটনার ফলে সৃষ্টি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে অর্থ, পণ্য বা সেবা প্রদান করে তা পরিশোধ করতে হবে। যেমনঃ প্রদেয় হিসাব, ব্যাংক ঋণ, প্রদেয় নোট।
দায়ের স্বাভাবিক জের: ক্রেডিট
বিপরীত, প্রতি বা কন্ট্রা দায় (Contra-Liability)
বিপরীত দায় সংশ্লিষ্ট দায়ের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এ ধরনের হিসাবের সাধারণত ডেবিট জের থাকে। যেমনঃ Discount on Bonds Payable বা বন্ডের প্রদেয় মূল্যের ওপর বাট্টা, পাওনাদার বাট্টা সঞ্চিতি (হিসাববিজ্ঞানের রক্ষণশীলতা অনুযায়ী এটা সৃষ্টি করা যায় না)।
৩. মালিকানা স্বত্ব (Owner's Equity)
মালিকানা স্বত্ব হিসাব হলো ব্যবসায়ের সম্পদের ওপর মালিকের দাবি। যেমনঃ মালিকের মূলধন, শেয়ার মূলধন, সংরক্ষিত আয়।
স্বাভাবিক জের: ক্রেডিট
বিপরীত, প্রতি বা কন্ট্রা মালিকানা স্বত্ব (Contra-Owner's Equity)
বিপরীত মালিকানা স্বত্ব মালিকানা স্বত্বের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এ ধরনের হিসাবের সাধারণত ডেবিট জের থাকে।যেমনঃ মালিকের উত্তোলন (Drawings/Withdrawals), Treasury Stock।
৪. রাজস্ব বা আয় হিসাব (Revenue)
রাজস্ব হলো ব্যবসায়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম থেকে অর্জিত আয়। যেমনঃ বিক্রয় রাজস্ব, সেবা রাজস্ব, কমিশন রাজস্ব।
স্বাভাবিক জের: ক্রেডিট
বিপরীত, প্রতি বা কন্ট্রা রাজস্ব (Contra-Revenue)
বিপরীত রাজস্ব বা আয় মোট রাজস্বের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এ ধরনের হিসাবের সাধারণত ডেবিট জের থাকে। যেমনঃ বিক্রয় ফেরত ও ভাতা (Sales Returns and Allowances), বিক্রয় বাট্টা (Sales Discounts)।
৫. ব্যয় (Expense)
ব্যয় হলো রাজস্ব অর্জনের জন্য ব্যবসায়ের যে ব্যয় বা খরচ হয়, তা লিপিবদ্ধ করা হয়। যেমনঃ বেতন ব্যয়, ভাড়া ব্যয়, বিদ্যুৎ ব্যয়, বিজ্ঞাপন ব্যয়।
স্বাভাবিক জের: ডেবিট
বিপরীত, প্রতি বা কন্ট্রা ব্যয় (Contra-Expense)
বিপরীত ব্যয় সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এ ধরনের হিসাবের সাধারণত ক্রেডিট জের থাকে। যেমনঃ কোনো কর্মচারী পূর্বে ব্যবসায়ের নামে রেকর্ড করা ২,০০০ টাকা ব্যয়ের একটি অংশ ব্যবসায়কে ফেরত দিলে, সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যয় কমাতে ব্যবহার করা যেতে পারে। ক্রয় ফেরত ও ভাতা (Purchase Returns and Allowances), ক্রয় বাট্টা (Purchase Discounts)।
প্রচলিত বা প্রথাগত শ্রেণিবিভাগ
উপরের হিসাবগুলো মূলত আধুনিক হিসাববিজ্ঞানের শ্রেণিবিভাগ। প্রচলিত বা প্রথাগত পদ্ধতিতে হিসাবকে সাধারণত ৩ ভাগে ভাগ করা হয়:
১. ব্যক্তিবাচক হিসাব (Personal Account)
ব্যক্তিবাচক হিসাব হলো এমন হিসাব, যা কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। যেমনঃ রহিম হিসাব, করিম হিসাব, ব্যাংক হিসাব, সরবরাহকারীর হিসাব।
স্বর্ণসূত্র: গ্রহনকারী বা গ্রহীতা ডেবিট, প্রদানকারী বা দাতা ক্রেডিট
উদাহরণ: রহিমকে ১০,০০০ টাকা প্রদান করা হলো।
→ রহিম টাকা গ্রহণ করেছে → রহিম হিসাব ডেবিট
২. সম্পত্তিবাচক হিসাব (Real Account)
সম্পত্তিবাচক হিসাব হলো এমন হিসাব, যা কোনো সম্পদ বা সম্পত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত। যেমনঃ নগদ অর্থ, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, ভবন, সুনাম (Goodwill)।
স্বর্ণসূত্র: যা আসে তা ডেবিট, যা যায় তা ক্রেডিট
উদাহরণ: নগদ টাকায় যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হলো।
→ যন্ত্রপাতি ব্যবসায়ে এসেছে → যন্ত্রপাতি হিসাব ডেবিট
→ নগদ অর্থ ব্যবসা থেকে বের হয়েছে → নগদ হিসাব ক্রেডিট
৩. নামিক হিসাব (Nominal Account)
নামিক হিসাব হলো এমন হিসাব, যা ব্যয়, ক্ষতি, আয় ও লাভের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেমনঃ বেতন ব্যয়, ভাড়া ব্যয়, বিক্রয় রাজস্ব, কমিশন প্রাপ্তি।
স্বর্ণসূত্র: সকল ব্যয় ও ক্ষতি ডেবিট, সকল আয় ও লাভ ক্রেডিট
উদাহরণ: ২০,০০০ টাকা বেতন প্রদান করা হলো।
→ বেতন একটি ব্যয় → বেতন হিসাব ডেবিট
→ নগদ অর্থ ব্যবসা থেকে বের হয়েছে → নগদ হিসাব ক্রেডিট