কর্মধারয় সমাস: যে সমাসে বিশেষণ ও বিশেষ্য পদ অথবা বিশেষ্য ও বিশেষণ পদ পরস্পর মিলিত হয়ে একটি পদ গঠন করে এবং পরপদের অর্থ প্রধান থাকে, তাকে কর্মধারয় সমাস বলে।
উদাহরণ:
নীল যে পদ্ম = নীলপদ্ম
কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা
মহান যে রাজা = মহারাজ
খাস যে মহল = খাসমহল
কর্মধারয় সমাসের প্রধান প্রকার
১. সাধারণ কর্মধারয় — কাঁচা যে কলা = কাঁচকলা
২. মধ্যপদলোপী কর্মধারয় — স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ = স্মৃতিসৌধ
৩. উপমান কর্মধারয় — তুষারের ন্যায় শুভ্র = তুষারশুভ্র
৪. উপমিত কর্মধারয় — পুরুষ সিংহের ন্যায় = পুরুষসিংহ
৫. রূপক কর্মধারয় — জীবনরূপ প্রদীপ = জীবনপ্রদীপ
৬. দ্বিগু কর্মধারয় — তিন ফলের সমাহার = ত্রিফলা
কর্মধারয় সমাসের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য
কর্মধারয় সমাসে সাধারণত বিশেষণ + বিশেষ্য বা বিশেষ্য + বিশেষণ থাকে।
এ সমাসে পরপদের অর্থই প্রধান।
পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে সাধারণত বিশেষণ–বিশেষ্য সম্পর্ক থাকে।
অনেক ক্ষেত্রে ‘যে’, ‘যিনি’, ‘যা’, ‘ন্যায়’, ‘মতো’ ইত্যাদি শব্দের সাহায্যে ব্যাসবাক্য করা যায়।
কর্মধারয় সমাসের পূর্বপদে ‘কু’ থাকলে অনেক সময় ‘কু’ → ‘কৎ’ হয়।
যেমন: কু + আচরণ = কদাচরণ।
পূর্বপদে ‘মহৎ’ বা ‘মহান’ থাকলে অনেক ক্ষেত্রে ‘মহা’ হয়।
যেমন: মহান যে রাজা = মহারাজ।
পূর্বপদে ‘রাজা’ থাকলে অনেক ক্ষেত্রে ‘রাজ’ হয়।
যেমন: মহা যে রাজা = মহারাজ।
কর্মধারয় সমাসের বিভিন্ন রূপ হলো— সাধারণ, মধ্যপদলোপী, উপমান, উপমিত ও রূপক কর্মধারয়।
সহজে চেনার কৌশল:
কোনো সমাসের ব্যাসবাক্যে যদি “যে/যিনি/যা” বসিয়ে অর্থ সুন্দরভাবে প্রকাশ করা যায় এবং পরপদের অর্থ প্রধান হয়, তাহলে সেটি কর্মধারয় হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।