সংজ্ঞা: যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।
উদাহরণ: পদ থেকে চ্যুত = পদচ্যুত। এখানে ‘থেকে’ বিভক্তি লোপ পেয়েছে।
তৎপুরুষ সমাসের প্রকারভেদ: তৎপুরুষ সমাস প্রধানত ৬ প্রকার—
- দ্বিতীয়া তৎপুরুষ:বইকে পড়া = বইপড়া।
2. তৃতীয়া তৎপুরুষ: মন দ্বারা গড়া = মনগড়া।
3. চতুর্থী তৎপুরুষ: বিয়ের জন্য পাগল = বিয়েপাগল।
4. পঞ্চমী তৎপুরুষ: পাপ হতে মুক্ত = পাপমুক্ত।
5. ষষ্ঠী তৎপুরুষ: রাজার পুত্র = রাজপুত্র।
6. সপ্তমী তৎপুরুষ: জলে মগ্ন = জলমগ্ন।
এ ছাড়াও নঞ্ তৎপুরুষ, উপপদ তৎপুরুষ ও অলুক তৎপুরুষ উল্লেখযোগ্য।
১.তৎপুরুষ সমাসের বৈশিষ্ট্য :
- তৎপুরুষ সমাসে সাধারণত পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায়।
- এ সমাসে পরপদের অর্থ প্রধান হয়।
- পূর্বপদ ও পরপদের মধ্যে বিভক্তির সম্পর্ক থাকে।
- পূর্বপদের বিভক্তি অনুসারে তৎপুরুষ সমাসের নামকরণ করা হয়।
২.তৎপুরুষ সমাসের আরও কিছু উদাহরণ:
সমাসবদ্ধ পদ ব্যাসবাক্য
রাজপুত্র রাজার পুত্র
দেশত্যাগ দেশকে ত্যাগ
মনগড়া মন দ্বারা গড়া
হস্তলিখিত হস্ত দ্বারা লিখিত
পাপমুক্ত পাপ থেকে মুক্ত
গৃহপ্রবেশ গৃহে প্রবেশ
জলমগ্ন জলে মগ্ন
দুঃখমুক্ত দুঃখ থেকে মুক্ত
ঋণমুক্ত ঋণ থেকে মুক্ত
পদচ্যুত পদ থেকে চ্যুত
তৎপুরুষ সমাস চেনার সহজ উপায়:
সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাসবাক্যে পরিণত করে দেখবে, পূর্বপদের সঙ্গে ‘কে’, ‘দিয়ে’, ‘জন্য’, ‘থেকে’, ‘এর’ বা ‘এ’ ইত্যাদি বিভক্তির সম্পর্ক আছে কি না। বিভক্তি লোপ পেয়ে পরপদের অর্থ প্রধান হলে তা তৎপুরুষ সমাস হতে পারে।
৪.পরীক্ষার জন্য মনে রাখবে
দ্বিতীয়া তৎপুরুষ — ‘কে’ বিভক্তি
তৃতীয়া তৎপুরুষ — ‘দিয়ে’, ‘দ্বারা’ বিভক্তি
চতুর্থী তৎপুরুষ — ‘জন্য’ বিভক্তি
পঞ্চমী তৎপুরুষ — ‘থেকে’, ‘হতে’ বিভক্তি
ষষ্ঠী তৎপুরুষ — ‘এর’, ‘র’ বিভক্তি
সপ্তমী তৎপুরুষ — ‘এ’, ‘তে’ বিভক্তি
মনে রাখার কৌশল: কে → দ্বারা → জন্য → থেকে → এর → এ।
এগুলো ভালোভাবে মনে রাখলে তৎপুরুষ সমাসের সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও উদাহরণ থেকে পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে সুবিধা হবে।