সমাস

সমাস শব্দের অর্থ সংক্ষেপণ। দুই বা ততোধিক পদের একসঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি নতুন শব্দ গঠনের প্রক্রিয়াকে সমাস বলে।

যেমন: বই ও পুস্তক = বই-পুস্তক, দেশের সেবা = দেশ-সেবা।

সমাসের বিভিন্ন পরিভাষা:

সমস্ত পদ: সমাসবদ্ধ বা সমাস নিষ্পন্ন পদকে সমস্ত পদ বলে।

সমস্যমান পদ: যে যে পদে সমাস হয়, তাদের প্রত্যেকটিকে সমস্যমান পদ বলে।

পূর্বপদ: সমস্ত পদের প্রথম অংশকে পূর্বপদ বলে।

পরপদ: সমস্ত পদের শেষ অংশকে পরপদ বা উত্তরপদ বলে।

ব্যাসবাক্য/বিগ্রহবাক্য: সমস্ত পদকে ভেঙে যে বাক্যাংশ পাওয়া যায় তাকে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য বলে।

উদাহরণ:

বিলাত থেকে ফেরত → বিলাত-ফেরত

এখানে—

সমস্ত পদ = বিলাত-ফেরত

পূর্বপদ = বিলাত

পরপদ = ফেরত

ব্যাসবাক্য = বিলাত থেকে ফেরত

সমাসের বৈশিষ্ট্য

১. সমাস ভাষা বা বাক্যকে সংক্ষেপ করে।

২. দুই বা ততোধিক শব্দের সমন্বয়ে নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করে।

৩. সমাসের রীতি সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত।

৪. বাংলা সমাসেও সংস্কৃত নিয়মের প্রভাব দেখা যায়।

৫. সাধারণত সমাসে বিশেষ্য পদের কারক-বিভক্তি থাকে না।

সমাসের প্রকারভেদ:

সমাস প্রধানত ৬ প্রকার—

  1. দ্বন্দ্ব সমাস — উত্তরপদের অর্থ প্রধান
  2. কর্মধারয় সমাস — পরপদের অর্থ প্রধান
  3. তৎপুরুষ সমাস — পরপদের অর্থ প্রধান
  4. বহুব্রীহি সমাস — তৃতীয় কোনো ভিন্ন অর্থ প্রধান
  5. দ্বিগু সমাস — সংখ্যাবাচক শব্দ থাকে
  6. অব্যয়ীভাব সমাস — পূর্বপদের অর্থ প্রধান

মনে রাখবে: দ্বিগু সমাসকে কর্মধারয় সমাস এবং কর্মধারয় সমাসকে তৎপুরুষ সমাসের অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়।

Test Your Knowledge

Answer all the questions and submit the quiz to see your score.

Question 1

সমাসের পূর্বপদকে কী বলা হয়?

Question 2

সমাস শব্দের অর্থ কী?

Question 3

ব্যাসবাক্যের অপর নাম কী?

Question 4

সমাস কত প্রকার?

Question 5

সমাসের রীতি কোন ভাষা থেকে আগত?

Question 6

যে সমাসের পরপদের অর্থই প্রধানরূপে বোঝায়, তাকে কোন সমাস বলে?

Question 7

যে যে পদ সমাস হয় তাদের প্রত্যেকটির নামকী?

Question 8

সমাস নিষ্পন্ন পদটির নাম কি/সমাসবদ্ধ পদকে কি বলে?

Question 9

একাধিক পদের এক পদীকরণের নাম কী?

Question 10

সমাসবদ্ধ পদের প্রথম অংশকে কি বলা হয়?